Skip to main content

Posts

অর্শ বা পাইলস সারিয়ে তুলুন দশ উপায়ে

অর্শ বা পাইলস: কারণ, লক্ষণ, করণীয়, খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসা অর্শ বা পাইলস কি? মলাশয়ের নিম্নাংশ বা মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে গেলে সেগুলোকে অর্শ বা পাইলস বলে। এই অর্শ মলদ্বারের অভ্যন্তরেও হতে পারে আবার বাইরেও হতে পারে। অর্শ বা পাইলস কেন হয় (অর্শের কারণসমূহ): অর্শের সঠিক কারণ জানা না গেলেও নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্শ হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে : ১. দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া। ২. শাকসব্জী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং পানি কম খাওয়া। ৩. শরীরের অতিরিক্ত ওজন। ৪. গর্ভাবস্থা। ৫. লিভার সিরোসিস। ৬. মলত্যাগে বেশী চাপ দেয়া। ৭. অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ) ব্যবহার করা বা এনেমা (শক্ত মল বের করার জন্য বিশেষ তরল মিশ্রণ ব্যবহার করা) গ্রহণ করা। ৮. টয়লেটে বেশি সময় ব্যয় করা। ৯. বৃদ্ধ বয়স। ১০. পরিবারে কারও পাইলস থাকা। ১১. ভার উত্তোলন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি। অর্শ বা পাইলস কীভাবে বুঝব (অর্শের লক্ষণসমূহ) : মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে : ১. পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া। ২. মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও...

পেটে যখন দুধ সয় না...

দুধ খেলে গ্যাস্ট্রিক বাড়ে। দুধে বদহজম হয়। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগীদের দুধ খাওয়া নিষেধ এ রকম নানা কারণে আমরা দুধকে দায়ী করি। আসলে দুধ আমিষ ও ক্যালসিয়ামের চমত্কার উত্স। আর দুধ খেলে রক্তচাপ বা রক্তে শর্করা বাড়ে এটা মোটেও ঠিক নয়। কিন্তু বদহজম? হ্যাঁ, বদহজমের ভয়ে অনেক চিকিত্সকও অনেক সময় রোগীকে দুধ খেতে নিরুত্সাহিত করেন।  আসলেই কি দুধ হজমে সমস্যা করে? আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে নিঃসৃত হয় ল্যাকটোজ নামে এনজাইম বা উেসচক, যা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার বিপাকে সাহায্য করে। কোনো কোনো রোগ যেমন ইনফ্লামেটরি বাউয়েল ডিজিজ, সিলিয়াক ডিজিজ ইত্যাদিতে ল্যাকটোজ এনজাইমের ঘাটতি বা অকার্যকারিতা হতে পারে। ফলে এসব রোগীর দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার সহজে হজম হয় না। দুধে আছে ল্যাকটোজ, আর তা হজমে সমস্যা হলে তাকে বলা হয় ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স। কারও কারও বংশগতভাবে এই সমস্যা থাকতে পারে। কীভাবে বুঝবেন, দুধ-অসহনীয়তা? ল্যাকটোজ সমৃদ্ধ খাবার মানে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। যেমন বমি ভাব, পেটের ভেতর অস্বস্তি, কামড়ানো, পেট ফাপা বা গ্যাস, ডায়রিয়া ইত্যাদি। এই লক্...

গুণের দাদা আদা

বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর মসলা হিসেবে পরিচিত ‘আদা’। এর অনেক গুণ। কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা সমাধানেও আদার ব্যবহার দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা আদাকে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে রায় দিয়েছেন। কারণ আদায় আছে বিশেষ রেচক গুণ, যা অন্ত্রের গতিবিধি সচল করে কোষ্ঠকাঠিন্য ভাব দূর করতে পারে।  কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে আদা যেভাবে ব্যবহার করবেন:  ১. হালকা গরম পানিতে সদ্য গুঁড়ো করা সামান্য আদার সঙ্গে লেবুর খানিকটা রস মিশিয়ে দিনে দু-তিনবার পান করলে কার্যকর ফল পাওয়া যেতে পারে; ২. আদার রসের সঙ্গে লেবুর রস বা আখের রস বা মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে; ৩. সবজি রান্নায় সামান্য আদা যুক্ত করা যেতে পারে; ৪. সতেজ এক টুকরো আদা মুখে নিয়ে ধীরে ধীরে চিবিয়ে রস খেলে হজম শক্তি বাড়ে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়: ৫. আদা-চা অন্ত্রের নড়াচড়া প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। আদায় জিঞ্জারোল নামের উপাদান আছে। আদা অ্যান্টি অ্যাক্সিড্যান্ট, প্রদাহরোধী ও ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

বদহজমের সমাধান কী?

বদহজম একটি বিরক্তিকর সমস্যা, যা মাঝেমধ্যে প্রকট হয়ে ওঠে। পরিপাকতন্ত্রে বড় কোনো সমস্যা নেই, তবু সহজে কিছু হজম হয় না—এমন অভিযোগ অনেকে করেন। কিছু খেলেই তাঁদের পেট কামড়ায়, মল ত্যাগ করলে সেই অস্বস্তি কমে। কেউ খুব কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, কারও আবার পাতলা পায়খানা হয় বেশি। এ ধরনের সমস্যার নাম ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস। এর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ধরনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এ বিষয়ে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, এ সমস্যা সাধারণত মানসিক অস্থিরতার কারণে হয়ে থাকে। কোনো অসুখের উপসর্গ হিসেবে, পরিবেশদূষণ, ভেজাল খাবার ইত্যাদি কারণে হতে পারে। এসব রোগীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণত তেমন কিছুই পাওয়া যায় না। এ জন্য তাঁরা আরও চিন্তিত হয়ে পড়েন, ভাবেন কি-না-কি হয়েছে কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ছে না। তবে বারবার ও দীর্ঘদিন ধরে বদহজমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বদহজমের রোগীদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা এসব রোগী দুই ধরনের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আস...

পেটে ব্যথা কখন ঝুঁকিপূর্ণ?

বিভিন্ন কারণে পেটে ব্যথা হয়। প্রশ্ন : অনেক কারণ রয়েছে পেটে ব্যথার। জীবনের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে, কোনো না কোনো সময়ে, এই পেটে ব্যথাগুলো সবারই হয়। একটু জানতে চাইব পেটে ব্যথার প্রধান কারণগুলো কী ? উত্তর : আমাদের কাছে সাধারণত যত রোগী আসে, এর এক তৃতীয়াংশ রোগী পেটের ব্যথা নিয়ে আসে। আর এই পেটের ব্যথা সাধারণ থেকে শুরু করে ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। সবটাই নির্ভর করে রোগীর বয়স, ব্যথার সময়, অন্যান্য সমস্যা- যেমন জ্বর হচ্ছে কি না, বমি হচ্ছে কি না, পায়খানা কেমন হচ্ছে, এই সবই মিলে আমরা ধারণা করি পেটের ব্যথা সাধারণ না কি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশ্ন : পেটের ব্যথা হলে অনেকেই মনে করেন গ্যাসট্রিকের ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা। আপনাদের কাছে যখন আসে তখন কী কী সমস্যা নিয়ে আসে? উত্তর : অনেকে পেট ব্যথা হলেই ভাবে গ্যাসের কারণে ব্যথা। তবে এটি ভুল। পেটের ব্যথায় যদি রোগী গ্যাসের কারণে ব্যথা ভেবে ওষুধ খেয়ে ফেলে তখন আমাদের কাছে এটি একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন : একজন রোগী বলছে আমার পেটে গ্যাস আটকে গেছে। আমার কাছে যখন এলো, তখন সে রীতিমতো তিন চার মাস দেরি করে ফেলছে। আমি তার পেটে হাত দিয়ে দেখলাম চাপ দিলে কোনো ব্যথা পাচ্ছে না। কিন্তু তা...

পেট ব্যথার কারণ ও চিকিৎসা

  পেট ব্যথার কারণ, পেট ব্যথার জরুরি লক্ষণ, পেট ব্যথা প্রতিরোধে করণীয়, চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ এসব সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। বিভিন্ন কারণে পেটে ব্যথা হতে পারে। অধিকাংশ পেট ব্যথা ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, কৃমি, পেপটিক আলসার অথবা মাসিকের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব ক্ষেত্রে রোগীকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। তবে তীব্র পেটে ব্যথা, পেট ফুলে শক্ত হওয়া, হঠাৎ পেটে ব্যথা এবং পেট ব্যথা ক্রমেই বাড়ার ক্ষেত্রে রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। পেট ব্যথার কারণ সাধারণ কারণ ডায়রিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়া কোষ্ঠকাঠিন্য বদহজম কৃমি পেপটিক আলসার মাসিকের ব্যথা শিশুদের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে না যাওয়ার প্রবণতা থাকলে অনেক সময় মানসিক দুর্বলতার কারণে পেট ব্যথা হতে পারে। গুরুতর কারণ প্রস্রাবের নালিতে সংক্রমণ  অন্ত্রের যে কোনো স্থানে ছিদ্র পিত্তথলির পাথর/প্রদাহ কিডনি, মূত্রথলি ও নালিতে পাথর/প্রদাহ অ্যাপেন্ডিসাইটিস অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ  মেয়েদের ডিম্বাশয়ে সংক্রমণ বা সিস্ট গর্ভজনিত সমস্যা (যেমন : জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ, গর্ভপাত ইত্যাদি) পেট ব্যথার জরুরি লক্ষণ  অনবরত ব্যথা যা ধ...

পেটে ব্যথা হলে কী করবেন?

হঠাৎ পেটে ব্যথা। বুঝতে পারছেন না এটি গ্যাস্ট্রিক নাকি অন্য কিছু। কী ওষুধ খাবেন, কার কাছে যাবেন, তা-ও বুঝতে পারছেন না। পেটে ব্যথার সঠিক স্থান, ধরন-ধারণ, আনুষঙ্গিক উপসর্গ ইত্যাদি মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো আছেই। প্রথমেই খেয়াল করতে হবে ওপর পেটে ব্যথা হচ্ছে, না তলপেটে। ওপরে হলে ব্যথা এক আঙুল দিয়ে নির্দেশ করলে সেটা কোন জায়গায় ওপর ডান, নাকি ওপর বাম? ব্যথাটা কোন দিকে ছড়াচ্ছে? কামড়ে ধরে আছে নাকি চিনচিন করছে, না জ্বালা করছে? সঙ্গে বমি, অরুচি, পায়খানার সমস্যা ইত্যাদি আছে কি না। কোনো কিছু খেলে বাড়ে নাকি খালি পেটে বাড়ে? কেমন হতে পারে পেটে ব্যথার ধরন? * পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা সাধারণত পেটের ওপর দিকে মাঝখানে শুরু হয়। এটি খালি পেটে বাড়ে, কখনো চিনচিনে, কখনো জ্বালাপোড়ার মতো মনে হয়। এর সঙ্গে বমিভাব, টক ঢেকুর, পেট ফাঁপা ইত্যাদি থাকতে পারে। অ্যান্টাসিড বা অন্য গ্যাস্ট্রিকের ওষুধে বেশ উপশম মেলে। * একই জায়গায় বা একটু বাঁ দিকে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হতে পারে। কিন্তু এই ব্যথা প্রচণ্ড তীব্র, পেছন দিকেও অনুভূত হয়। রোগী ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। সামনে ঝুঁকে থাকলে আরাম মেলে। সঙ্গে...