Skip to main content

আমাশয় হলে কি করে বুঝবেন? #003

আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি আমাদের দেশে একটি অতি পরিচিত রোগ৷ ডিসেন্ট্রি বা আমাশয় হলো এক ধরনের ডায়রিয়া যাতে পাতলা মলের সাথে রক্ত দেখা যায়৷
প্রকারভেদ -
আমাশয় দু ধরনের, এদের কারণ যেমন ভিন্ন রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসাও তেমনি ভিন্ন৷
১. এমিবিক আমাশয় : এমিবিক ঘটিত ডিসেন্ট্রি বড় ছেলে-মেয়েদের হয়ে থাকে কিন্তু ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এর প্রবণতা অত্যন্ত কম৷
২. বেসিলারি আমাশয় : বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অন্ত্রের সংক্রামনের কারণে ডিসেন্ট্রি হয়৷ সাধারণত বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়ার কারণেই এটা হয়৷ তাদের মধ্যে সিগেলা নামক ব্যাকটেরিয়াই অন্যতম৷

এমিবিক ডিসেন্ট্রি :
এই রোগটি পরিপাকতন্ত্রের বৃহদান্ত্রে এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামক এক প্রকার পরজীবীর সংক্রামণের ফলে হয়৷ রোগটি হঠাৎ করে তীব্র আকারেও হতে পারে আবার অল্প অল্প উপসর্গসহ দীর্ঘ দিনেরও হতে পারে৷

কীভাবে সংক্রামিত হয় ?
এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা পরজীবীটি এর চারদিকে এক ধরণের আবরণ গঠন করে মাটিতে ও পানিতে বিচরণ করে৷ দূষিত পানি, অপরিচ্ছন্ন খাবারের মাধ্যমে এই পরজীবীটি পেটের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং বৃহদান্ত্রের সিকামের কাছাকাছি জায়গায় গিয়ে এর বাইরের আবরণটি খুলে ফেলে৷ অতঃপর পরজীবীটি বৃহদান্ত্রের গায়ে যে শ্লেষ্মাঝিল্লি আছে তা আকড়ে ধরে৷ এ সময় পরজীবীটির দেহ থেকে এক প্রকার ক্ষতিকারক রস নিঃসরণ হয় যা শ্লেষ্মাঝিল্লিকে ভেঙে ফেলে৷ আর এই ভেঙ্গে যাওয়া শ্লেষ্মাঝিল্লিতে এ্যমিবার আক্রমণে ক্ষতের সৃষ্টি হয়৷ এই শ্লেষ্মাঝিল্লির ঝরে পড়া অংশ মলের সঙ্গে বের হয় যাকে আমরা আম বলি৷ তলপেটে সাধারণত ডানপাশে চিনচিনে ব্যথা হয়৷ ডানদিকে সিকাম থাকে যা পরজীবীটির আক্রমণের মূল লক্ষ্যস্থল৷
উপসর্গ ও লক্ষণ:
•    রোগী বারবার পাতলা পায়খানা করে (সাধারণত দিনে ১০ বারের কম)৷
•    পায়খানার সঙ্গে মিউকাস (শ্লেষ্মাঝিল্লি) বা আাম বেশি থাকে আর রক্ত কম৷
•    ডানদিকের তলপেটে সাধারণত ব্যথা হয়৷
 
চিকিৎসা :
•    বিশ্রাম নিতে হবে৷
•    প্রচুর পরিমাণে তরল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে৷
•    ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ট্যাবলেট মেট্রোনিডাজল (৪০০ মি.গ্রা.) ১টা দিনে ৩ বার করে ৫ দিন (পূর্ণ বয়স্কদের ক্ষেত্রে) খেতে হবে৷
•    শিশুদের ওজন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে৷
বেসিলারি ডিসেন্ট্রি/ আমাশয়:
এ রোগটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে দেখা যায় এবং বহু লোকের মৃত্যুর জন্য এই রোগ দায়ী৷ বেসিলারি ডিসেন্ট্রি বা আমাশয়ের আর এক নাম শিগেলোসিস৷ শিগেলা নামে এক প্রকার ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামণের ফলে এই রোগটি হয়৷ মলের সঙ্গে রক্ত বেশি যায় বলে এটিকে এক সময় রক্ত আমাশয় বলা হতো৷
কীভাবে সংক্রমিত হয় :
২ থেকে ৫ বছরের শিশুরা এ রোগে বেশী আক্রান্ত হয়৷ এ রোগের প্রধান উৎস হলো রোগীর মল৷ মাছির মাধ্যমে রোগজীবাণু খাদ্য ও পানীয়তে সঞ্চারিত হয়৷ এ সকল দূষিত খাদ্য ও পানীয় পান করার ফলে রোগের সংক্রামণ হয়৷ শিগেলা জীবাণুটি মানুষের পেটে ঢুকে পাকস্থলী অতিক্রম করে চলে যায় ক্ষুদ্রান্ত্রে৷ সেখানে জীবাণুটি বংশবৃদ্ধি করে এবং বৃহদান্ত্রে ঘায়ের সৃষ্টি করে৷ ঝিল্লি ফুলে উঠে ও লাল হয়ে যায়৷ ঝিল্লিতে পুঁজের আবরণ পড়ে এবং ক্ষতের সৃষ্টি হয়৷ সামান্য আঘাতেই এই ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হয়৷ তাই মলের সঙ্গে রক্ত যায়৷

লক্ষণ :
•    হঠাৎ করে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা শুরু হয় (সাধারণত দিনে ১০ বারের বেশি)৷
•    রোগীর পেটে ব্যথা থাকে এবং খিঁচুনি হতে পারে৷
•    রোগীর জ্বর হয় (১০২-১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে)৷
•    বারবার পায়খানার ফলে পানিস্বল্পতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়৷

চিকিৎসা:
•    বিশ্রাম করতে হবে৷
•    প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর খাওয়ার স্যালাইন (সমপরিমাণ) খেতে হবে৷
•    প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার (যেমন - ফুটানো ঠাণ্ডা পানি, শরবত, ডাবের পানি, ভাতের মাড় ইত্যাদি) খেতে হবে৷
•    অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হলে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ঔষধ খেতে হবে৷

Comments

Popular posts from this blog

আলসার রোগীর খাদ্য তালিকা

আলসার বা পেটের ভিতরে হওয়া ঘা রোগীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। পেটের দেওয়ালে হওয়া ঘায়ের সঙ্গে খাবারের মধ্যে থাকা মশলা , তরল ইত্যাদির সংস্পর্শ হলে বা অ্যাসিডিটি হলে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয় , গ্যাসট্রাইটিসের সমস্যা হয় , পেট জ্বালা করতে থাকে যা সহ্য করা একেক সময় অসম্ভব হয়ে ওঠে। আলসারের মধ্যে সবচেয়ে চেনা নাম হল ' গ্যাসট্রিক আলসার ' । আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে আলসার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার মাধ্যমে সারানো যায়। বস্তুত , আলসার সারানোর নানা উপায় রয়েছে। আলসার সেরে যাওয়ার পর ঠিকমতো ডায়েট চার্ট মেনে চলাও সবার অবশ্য কর্তব্য। একইসঙ্গে ধূমপান না করা , মদ্যপানে বিরত থাকার কথাও চিকৎসকেরা বারবার করে বলে দেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক , কোন কোন খাবার ডায়েট চার্টে থাকলে আলসার সারতে পারে সহজেই। মধু মধু এমন একটি অ্যান্টিসেপটিক যা যে কোনও জ্বালা-পোড়া বা ঘা সারাতে লড়াই করে। মধু খেলে আলসার আর বাড়ে না। বরং ধীরে ধীরে কমবে। টক দই কম ফ্যাটের ডেয়ারি প্রোডাক্ট, বিশেষ করে দই আলসার সারাতে অসাধারণ কাজ করে। চর্বিহীন মাংস ও পোলট্রি  প্রোডাক্ট চর্বিহীন মাংস ও পোল...

ব্যায়াম ছাড়াই স্লিম হতে, পান করুন এই পানীয়!

ডায়েট কিংবা ব্যায়াম করেও কিছুতেই কমাতে পারছেন না বাড়তি ওজন, পাচ্ছেন না মনের মত স্লিম ও আকর্ষণীয় ফিগার? অনেকের আবার ব্যায়াম করার সময় নেই, ডায়েট করা সুযোগ নেই। তাঁরাই বা কীভাবে কমাবেন ওজন? তাই বেশী ওজন নিয়ে খুব যুদ্ধ করছেন? রোজ সকালে এই পানীয়টি তৈরি করুন এবং পান করুন খালি পেটে। কোন পরিশ্রম ছাড়াই আপনার শরীর হয়ে উঠবে ছিপছিপে সুন্দর। জেনে নিন দারুণ রেসিপি উপকরণঃ- ১ টেবিল চামচ মধু ১ টেবিল চামচ তাজা আদা কুচি বা বাটা (আদা গুঁড়োও ব্যবহার করতে পারেন) ১ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার ১ কোয়া রসুন ১ মুঠো পুদিনা বা পারসলে কুচি আধা গ্লাস ফুটানো পানি (কক্ষ তাপমাত্রায়) অর্ধেকটা অ্যাভোকাডো (সুপার মার্কেটে খুঁজলেই পাবেন। না পেলে পেঁপে ব্যবহার করতে পারেন) প্রস্তুতপ্রণালি -মধু বাদে বাকি সব উপাদান ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। -গ্লাসে ঢেলে মধু যোগ করুন। -খুব ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিন। -তারপর খালি পেটে রোজ সকালে পান করুন এই পানীয়টি। সতর্কতাঃ- আপনার মেটাবোলিজম বৃদ্ধি ও শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দেয়ার মাধ্যমে এই পানীয়টি কমাবে আপনার ওজন। তবে ব্যবহৃত যে কোন একটি উপাদানে এলারজি হয় বা অন্য কোন শারী...

ওজন কমানোর ছয় টি ভুল ধারণা

বাড়তি ওজন কমে গেলে কার না ভালো লাগে! তাই ওজন কমাতে অনেকে হয়তো উঠেপড়ে লাগেন। আর ভুলভাল রীতি মেনে চলতে থাকেন।এতে অনেকের বাড়তি মেদ   কমলেও শরীরের ওপর বাজে প্রভাব পড়ে। আবার চেষ্টার পরও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায় না অনেকে। ওজণ   কমানোর কিছু ভুল ধারণার কথা   জেনে নিন। 1: কার্বোহাইড্রেট শত্রু অনেকেই ওজণ কমানোর সময় কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার একেবারেই বাদ দিয়ে দেন বা ভাবেন Weight কমাতে গেলে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বাদ দিতেই হবে। সত্য হলো , শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে গেলে বা স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে গেলে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বাদ দিলে চলবে না। স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেটের উৎস যেমন : ফল , সবজি , বাদাম , গম জাতীয় খাবার এগুলো শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   ওজন   কমাতে প্রোটিনের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য রাখতে হবে। তবে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একমত বিশেষজ্ঞরা। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট যেমন : সাদা ভাত , সাদা পাস্তা , প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক , মিষ্টি ইত্যাদি। এগুলো কম খাওয়াই ভালো। 2: দ্রুত ফলাফল পেতে জিমে গিয়ে কঠোর ব্যায়াম করা প্রতিদিন সমপর...